আরে বন্ধুরা, কেমন আছো সবাই? আশা করি সবাই ফাটাফাটি আছো! পাবজি মোবাইল খেলার সময় কি তোমাদের মনেও কখনও এই প্রশ্নটা এসেছে যে, ইস!
যদি আমিও কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারতাম? যদি আমার টিমের সাথে দেশের সেরা দলগুলোর সাথে লড়ার সুযোগ পেতাম? হ্যাঁ, এমন স্বপ্ন অনেকেই দেখে। তবে স্বপ্নের দুনিয়া থেকে বাস্তবে আসার পথটা অনেকে খুঁজে পায় না। আজকাল মোবাইল গেমিংয়ের ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল, তা তো আমরা সবাই দেখছি। পাবজি ইস্পোর্টস এখন একটা বিশাল বড় ইন্ডাস্ট্রি, যেখানে মেধা আর পরিশ্রম থাকলে যে কেউ নিজের জায়গা করে নিতে পারে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সঠিক তথ্য আর একটু সাহস থাকলেই এই স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। আমি দেখেছি অনেক সাধারণ গেমারও কিভাবে নিজেদের দক্ষতা বাড়িয়ে বড় বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে এবং সফল হচ্ছে।তোমরা হয়তো ভাবছো, এ তো শুধু বড় বড় প্লেয়ারদের কাজ। কিন্তু বিশ্বাস করো, ছোট ছোট লিগ থেকে শুরু করে বড় বড় পেশাদার টুর্নামেন্ট, সব জায়গায় সুযোগ আছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে পাবজি মোবাইলের প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে এবং নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে। ২০২৩ সালে সৌদি আরবের মতো দেশের ই-স্পোর্টসে বিনিয়োগ এক বিশাল অনুপ্রেরণা, যা গেমিং শিল্পে বড় পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশেও মোবাইল ই-স্পোর্টস দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, আর এর পেছনে রয়েছে তরুণ গেমারদের উন্মাদনা। আমার মনে হয়, সঠিক পরিকল্পনা আর একটু সাহস থাকলে যে কেউ এই দুনিয়ায় নিজের জায়গা করে নিতে পারে। তোমরা শুধু তোমাদের স্কিলকে শান দাও, বাকিটা আমি তোমাদের দেখিয়ে দিচ্ছি। পাবজি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সঠিক উপায়গুলো জানতে চলো, বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।
নিজের গেমিং যাত্রা শুরু করার আগে

নিজের খেলার ধরণকে চিনে নিন এবং উন্নতি করুন
পাবজি মোবাইলে ভালো করতে হলে সবার আগে নিজের খেলার ধরণটাকে বুঝতে হবে। তুমি কি রাশ প্লেয়ার নাকি ফিনিশিংয়ে ভালো? নাকি সাপোর্টিং রোলে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করো?
এটা জানাটা খুব জরুরি। ধরো, তুমি খুব ভালো রশার, কিন্তু টিম তোমাকে স্নাাইপার হিসেবে খেলানোর চেষ্টা করছে। এতে টিম এবং তোমার পারফরম্যান্স দুটোই খারাপ হবে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, যখনই আমি আমার স্ট্রং পয়েন্টগুলো নিয়ে কাজ করেছি, তখনই আমার খেলা অনেক উন্নত হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মিড-রেঞ্জ ফাইটগুলোতে খুব উপভোগ করি এবং সেই অনুযায়ী ট্রেনিংও নিয়ে থাকি। প্রতিদিন কিছু সময় শুধু টিডিএম (TDM) বা এঙ্গেলিং (Angling) প্র্যাকটিসের জন্য রাখো, দেখবে তোমার রিফ্লেক্স এবং এম (Aim) অনেক ভালো হবে। শুধু কিল (Kill) করার দিকে না তাকিয়ে, কিভাবে জোনে টিকে থাকতে হয় এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেদিকেও মনোযোগ দিতে হবে। ছোট ছোট ভুলগুলো থেকে শিখতে শেখো, কারণ এগুলোই তোমাকে একজন ভালো প্লেয়ারে পরিণত করবে।
নিয়মিত অনুশীলনই সাফল্যের চাবিকাঠি
গেমিংয়ে সফল হতে চাইলে অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই, ঠিক যেমন অন্য যেকোনো খেলাধুলায় হয়। প্রতিদিন অন্তত ২-৩ ঘন্টা অনুশীলনের জন্য সময় বের করো। এটা শুধু র্যা ঙ্ক পুশ করা নয়, বরং ট্রেনিং গ্রাউন্ডে নতুন নতুন কৌশল চেষ্টা করা, বিভিন্ন গান (Gun) কম্বিনেশন নিয়ে কাজ করা এবং বন্ধুদের সাথে কাস্টম ম্যাচ খেলে নিজেদের ভুলগুলো খুঁজে বের করা। আমি অনেকবার দেখেছি যে, টুর্নামেন্টের আগে আমাদের টিম একসাথে বসে প্ল্যান (Plan) করে এবং সেই অনুযায়ী অনুশীলন করে। এটা আমাদের ভুলগুলো ধরতে এবং নতুন কৌশল তৈরি করতে অনেক সাহায্য করে। অনুশীলনের সময় কখনোই বিরক্ত হওয়া উচিত নয়, কারণ তোমার আজকের ঘামই কালকের সাফল্যের চাবিকাঠি। তুমি যদি নিয়মিত অনুশীলন না করো, তাহলে বড় টুর্নামেন্টে ভালো পারফর্ম করাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। নিজের গেমিং স্কিলকে শাণিত করার এটাই একমাত্র উপায়।
সঠিক দল গঠন এবং যোগাযোগের গুরুত্ব
আপনার স্কোয়াড কিভাবে সেরা হবে?
পাবজি মোবাইলে solo খেলার চেয়ে টিম (Team) নিয়ে খেলাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভালো একটা টিম মানে শুধু চারজন ভালো প্লেয়ার নয়, বরং চারজন এমন প্লেয়ার যারা একে অপরের সাথে বোঝাপড়া করে খেলতে পারে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, একটা শক্তিশালী টিম গঠন করতে হলে শুধু স্কিল (Skill) নয়, বরং মানসিক বোঝাপড়া এবং একে অপরের প্রতি বিশ্বাস থাকাটা জরুরি। তোমার টিমে একজন ইন-গেম লিডার থাকা চাই, যে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এছাড়া একজন ভালো সাপারোর্টার, একজন ফ্রেগার এবং একজন স্কাউটার – এই রোলগুলো সঠিকভাবে ভাগ করে নিলে টিম অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। মনে রেখো, তোমার টিমের সদস্যরা তোমার সেরা বন্ধু হবে টুর্নামেন্টের মাঠে।
ইন-গেম যোগাযোগের কৌশল
টিমওয়ার্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইন-গেম কমিউনিকেশন (Communication)। সাইলেন্ট প্লেয়ার দিয়ে বড় টুর্নামেন্ট জেতা প্রায় অসম্ভব। তোমাদের টিমের মধ্যে স্পষ্ট এবং কার্যকর কমিউনিকেশন থাকা দরকার। কোন এনিমি (Enemy) কোথায় আছে, কোন দিকে রাশ (Rush) করতে হবে, কখন ফাইট (Fight) নিতে হবে, কখন হোল্ড (Hold) করতে হবে – এই সব বিষয়ে দ্রুত এবং পরিষ্কার তথ্য আদান-প্রদান করা জরুরি। আমি দেখেছি, অনেক সময় ছোটখাটো ভুলের কারণে টিম হেরে যায়, যার প্রধান কারণ হলো যোগাযোগের অভাব। টিমমেটদের সাথে ভয়েস চ্যাটে কথা বলার সময় সংক্ষেপে এবং স্পষ্ট করে বলতে শেখো। অতিরিক্ত কথা বলে টিমের মনোযোগ নষ্ট না করাটাও একটা কৌশল।
ছোট টুর্নামেন্ট থেকে বড় মঞ্চে যাত্রা
অনলাইন লিগ এবং কমিউনিটি টুর্নামেন্টের খোঁজ
পেশাদার পাবজি খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখলে তোমাকে ছোট ছোট টুর্নামেন্ট থেকেই শুরু করতে হবে। অনেকেই ভাবে, সরাসরি বড় টুর্নামেন্টে নামবে, কিন্তু এটা প্রায় অসম্ভব। আমাদের দেশের বিভিন্ন কমিউনিটি এবং গেমিং গ্রুপগুলো নিয়মিত ছোট ছোট অনলাইন টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। ডিসকর্ড (Discord) সার্ভার, ফেসবুক (Facebook) গ্রুপ এবং বিভিন্ন গেমিং প্ল্যাটফর্মে এই টুর্নামেন্টগুলোর খোঁজ পাওয়া যায়। এখানে অংশ নিয়ে তুমি তোমার টিমের পারফরম্যান্স ঝালিয়ে নিতে পারবে এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সাথে লড়ার সুযোগ পাবে। আমি নিজেও আমার পাবজি যাত্রা ছোট কমিউনিটি টুর্নামেন্ট থেকেই শুরু করেছিলাম, যা আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল।
অভিজ্ঞতা বাড়ানোর সহজ উপায়
ছোট টুর্নামেন্টগুলো তোমাকে শুধু খেলার সুযোগই দেয় না, বরং প্রতিযোগিতামূলক গেমিংয়ের পরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা দেয়। এই টুর্নামেন্টগুলো জেতা বা হারার চেয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করাটা বেশি জরুরি। তুমি এখানে নতুন কৌশল চেষ্টা করতে পারবে, প্রতিপক্ষের ভুলগুলো থেকে শিখতে পারবে এবং তোমার টিমের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে পারবে। মনে রাখবে, প্রতিটি ম্যাচই তোমার জন্য একটা নতুন শেখার সুযোগ নিয়ে আসে। বেশি বেশি টুর্নামেন্টে অংশ নিলে তোমার টিম আরও বেশি অভিজ্ঞ হয়ে উঠবে এবং বড় টুর্নামেন্টে ভালো করার সম্ভাবনা বাড়বে।
টুর্নামেন্টের নিয়মকানুন ও কৌশলগত প্রস্তুতি
প্রতিপক্ষের কৌশল বিশ্লেষণ
যেকোনো টুর্নামেন্টে সফল হতে হলে প্রতিপক্ষকে ভালোভাবে জানতে হবে। শুধুমাত্র নিজের খেলা ভালো হলে হবে না, জানতে হবে তোমার প্রতিপক্ষরা কেমন খেলে, তাদের পছন্দের ল্যান্ডিং স্পট (Landing Spot) কোনটা, তারা কখন রাশ করে, আর তাদের দুর্বল দিকগুলো কী কী। টুর্নামেন্টের আগে প্রতিটা টিমের গত খেলাগুলো রিভিউ (Review) করাটা খুব দরকারি। আমি দেখেছি, যখন আমরা প্রতিপক্ষের খেলার ধরণ বিশ্লেষণ করে মাঠে নামি, তখন আমাদের জয় অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। প্রতিপক্ষের গেমপ্ল্যান (Gameplan) বুঝে সেই অনুযায়ী নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করাটাও একটা বড় গুণ।
জোনের হিসাব এবং সঠিক রোটেটিং
পাবজি মোবাইলে জোন (Zone) ম্যানেজমেন্ট (Management) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। কখন জোনের ভিতরে ঢুকতে হবে, কখন এজ (Edge) ধরে খেলতে হবে, আর কখন ফাইট (Fight) এড়িয়ে যেতে হবে, এই সিদ্ধান্তগুলো সঠিকভাবে নেওয়াটা জরুরি। টুর্নামেন্টে প্রতিটা জোন আলাদা আলাদা কৌশল দাবি করে। টিম হিসেবে জোনে রোটেট (Rotate) করার সময় কভার (Cover) ব্যবহার করা এবং সেফ (Safe) রুট (Route) বেছে নেওয়া উচিত। আমি দেখেছি, অনেক ভালো টিমও শুধু জোন ম্যানেজমেন্টের অভাবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পজিশন (Position) নেওয়াটা যুদ্ধের অর্ধেক জেতার সমান।
ই-স্পোর্টস প্ল্যাটফর্ম এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া
জনপ্রিয় পাবজি ই-স্পোর্টস প্ল্যাটফর্মগুলো
আজকাল পাবজি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ভালো প্ল্যাটফর্ম আছে। দেশের বাইরে যেমন ESL India বা অফিসিয়াল PUBG Mobile Esports এর মত বড় প্ল্যাটফর্মগুলো আছে, তেমনি আমাদের দেশেও অনেক কমিউনিটি তাদের নিজস্ব টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। এই প্ল্যাটফর্মগুলো পেশাদারিত্বের সাথে টুর্নামেন্ট পরিচালনা করে এবং এখানে ভালো পারফর্ম করলে তুমি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও পরিচিতি পেতে পারো। তোমাদের সুবিধার জন্য কিছু জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| প্ল্যাটফর্মের নাম | টুর্নামেন্টের ধরন | সুবিধা |
|---|---|---|
| ESL India/Global | পেশাদার এবং সেমি-পেশাদার | বড় প্রাইজ পুল, আন্তর্জাতিক এক্সপোজার |
| PUBG Mobile Esports (Official) | অফিসিয়াল লিগ, বড় টুর্নামেন্ট | সর্বোচ্চ স্তরের প্রতিযোগিতা, গ্লোবাল স্বীকৃতি |
| Local Community Tournaments (Discord/Facebook) | শিক্ষানবিশ এবং স্থানীয় দল | অভিজ্ঞতা অর্জন, স্থানীয় খেলোয়াড়দের সাথে পরিচিতি |
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিস্তারিত প্রক্রিয়া
যেকোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হলে সবার আগে তোমাকে রেজিস্ট্রেশন (Registration) করতে হবে। বেশিরভাগ প্ল্যাটফর্মেই অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ফর্ম (Form) পূরণ করতে হয়, যেখানে তোমার টিমের নাম, খেলোয়াড়দের ইন-গেম আইডি (ID) এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। রেজিস্ট্রেশনের আগে টুর্নামেন্টের নিয়মকানুন এবং ফরম্যাট (Format) খুব ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। অনেক সময় বিশেষ সার্ভার (Server) বা ভার্সন (Version) ব্যবহার করতে হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আমার মনে আছে, প্রথমবার যখন রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম, তখন একটা ছোট ভুল করে প্রায় টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছিলাম!
তাই প্রতিটি ধাপ খুব সাবধানে অনুসরণ করা জরুরি।
মানসিক প্রস্তুতি এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলা
হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর মন্ত্র
পাবজি ই-স্পোর্টসে জয়-পরাজয় জীবনেরই অংশ। প্রতিটি টুর্নামেন্টে সবাই জিতবে এমনটা হয় না। অনেক সময় এমনও হয় যে, তোমরা খুব ভালো খেলেছো, কিন্তু ভাগ্যের কারণে হেরে গেছো। এই সময়ে হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু একজন পেশাদার খেলোয়াড় কখনোই হতাশাকে জয় করতে দেয় না। হারের পর নিজেদের ভুলগুলো খুঁজে বের করা এবং সেগুলোকে ঠিক করার চেষ্টা করাটাই হলো আসল কাজ। আমার টিমও অনেকবার হেরেছে, কিন্তু আমরা কখনোই হাল ছাড়িনি। প্রতিটি হার আমাদের আরও শক্তিশালী করেছে এবং পরেরবার আরও ভালো খেলার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে। মনে রাখবে, আজকের হার আগামীকালের জয়ের সিঁড়ি।
টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোর উপায়
বড় টুর্নামেন্টে খেলার সময় মানসিক চাপ অনুভব করাটা খুব স্বাভাবিক। হাজার হাজার দর্শক এবং প্রতিপক্ষের তীব্র প্রতিযোগিতা সবকিছু মিলিয়ে একজন খেলোয়াড়ের উপর অনেক চাপ তৈরি করে। এই চাপ সামলানোর জন্য তোমাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। ম্যাচের আগে হালকা ব্যায়াম করা, গভীর শ্বাস নেওয়া বা টিমের সাথে হালকা গল্প করা – এগুলো চাপ কমাতেও সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, নিজের উপর বিশ্বাস রাখা। তুমি জানো যে তুমি ভালো খেলতে পারো, তাই অযথা টেনশন (Tension) না করে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করো। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন তুমি আত্মবিশ্বাসী থাকবে, তখন তোমার পারফরম্যান্সও অনেক ভালো হবে।
গেমিং ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার টিপস
স্ট্রিমিং এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশন
শুধু টুর্নামেন্ট খেলে ভালো প্লেয়ার হওয়া যায় না, নিজের ব্র্যান্ড (Brand) তৈরি করাও জরুরি। আজকাল স্ট্রিমিং (Streaming) এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশন (Content Creation) গেমিং ইন্ডাস্ট্রির একটা বিশাল অংশ। তুমি যদি তোমার গেমপ্লে (Gameplay) স্ট্রিম (Stream) করো বা মজার ভিডিও (Video) তৈরি করো, তাহলে আরও অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবে। এর ফলে তোমার ফলোয়ার (Follower) বাড়বে, মানুষ তোমাকে চিনবে এবং স্পনসরশিপের (Sponsorship) সুযোগও তৈরি হবে। আমি নিজেও মাঝে মাঝে আমার খেলার কিছু অংশ রেকর্ড করে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি, তারা এটা খুব উপভোগ করে। নিজের অভিজ্ঞতা, টিপস এবং ট্রিকস (Tricks) শেয়ার করে তুমি একজন ইনফ্লুয়েন্সারও (Influencer) হয়ে উঠতে পারো।
স্পনসরশিপ ও ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগ
যখন তুমি একজন পরিচিত পাবজি প্লেয়ার বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে উঠবে, তখন বিভিন্ন গেমিং কোম্পানি বা ব্র্যান্ড তোমার সাথে কাজ করতে চাইবে। এটাই হলো স্পনসরশিপের সুযোগ, যা তোমার গেমিং ক্যারিয়ারকে আর্থিকভাবেও শক্তিশালী করবে। ভালো পারফরম্যান্স এবং জনপ্রিয়তা তোমাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর (Brand Ambassador) হওয়ার সুযোগ দিতে পারে। তবে এর জন্য তোমাকে ধারাবাহিক ভালো পারফর্ম করতে হবে এবং নিজের অনলাইন ইমেজ (Image) ভালো রাখতে হবে। মনে রাখবে, ই-স্পোর্টস এখন শুধু খেলা নয়, একটা বিশাল বড় ক্যারিয়ার অপশন (Career Option)। সঠিক পথে এগিয়ে গেলে তুমিও এই দুনিয়ায় নিজের নাম উজ্জ্বল করতে পারবে।আরে বন্ধুরা, কেমন আছো সবাই?
আশা করি সবাই ফাটাফাটি আছো! পাবজি মোবাইল খেলার সময় কি তোমাদের মনেও কখনও এই প্রশ্নটা এসেছে যে, ইস! যদি আমিও কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারতাম?
যদি আমার টিমের সাথে দেশের সেরা দলগুলোর সাথে লড়ার সুযোগ পেতাম? হ্যাঁ, এমন স্বপ্ন অনেকেই দেখে। তবে স্বপ্নের দুনিয়া থেকে বাস্তবে আসার পথটা অনেকে খুঁজে পায় না। আজকাল মোবাইল গেমিংয়ের ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল, তা তো আমরা সবাই দেখছি। পাবজি ইস্পোর্টস এখন একটা বিশাল বড় ইন্ডাস্ট্রি, যেখানে মেধা আর পরিশ্রম থাকলে যে কেউ নিজের জায়গা করে নিতে পারে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সঠিক তথ্য আর একটু সাহস থাকলেই এই স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। আমি দেখেছি অনেক সাধারণ গেমারও কিভাবে নিজেদের দক্ষতা বাড়িয়ে বড় বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে এবং সফল হচ্ছে।তোমরা হয়তো ভাবছো, এ তো শুধু বড় বড় প্লেয়ারদের কাজ। কিন্তু বিশ্বাস করো, ছোট ছোট লিগ থেকে শুরু করে বড় বড় পেশাদার টুর্নামেন্ট, সব জায়গায় সুযোগ আছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে পাবজি মোবাইলের প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে এবং নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে। ২০২৩ সালে সৌদি আরবের মতো দেশের ই-স্পোর্টসে বিনিয়োগ এক বিশাল অনুপ্রেরণা, যা গেমিং শিল্পে বড় পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশেও মোবাইল ই-স্পোর্টস দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, আর এর পেছনে রয়েছে তরুণ গেমারদের উন্মাদনা। আমার মনে হয়, সঠিক পরিকল্পনা আর একটু সাহস থাকলে যে কেউ এই দুনিয়ায় নিজের জায়গা করে নিতে পারে। তোমরা শুধু তোমাদের স্কিলকে শান দাও, বাকিটা আমি তোমাদের দেখিয়ে দিচ্ছি। পাবজি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সঠিক উপায়গুলো জানতে চলো, বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।
নিজের গেমিং যাত্রা শুরু করার আগে
নিজের খেলার ধরণকে চিনে নিন এবং উন্নতি করুন
পাবজি মোবাইলে ভালো করতে হলে সবার আগে নিজের খেলার ধরণটাকে বুঝতে হবে। তুমি কি রাশ প্লেয়ার নাকি ফিনিশিংয়ে ভালো? নাকি সাপোর্টিং রোলে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করো?
এটা জানাটা খুব জরুরি। ধরো, তুমি খুব ভালো রশার, কিন্তু টিম তোমাকে স্নাাইপার হিসেবে খেলানোর চেষ্টা করছে। এতে টিম এবং তোমার পারফরম্যান্স দুটোই খারাপ হবে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, যখনই আমি আমার স্ট্রং পয়েন্টগুলো নিয়ে কাজ করেছি, তখনই আমার খেলা অনেক উন্নত হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মিড-রেঞ্জ ফাইটগুলোতে খুব উপভোগ করি এবং সেই অনুযায়ী ট্রেনিংও নিয়ে থাকি। প্রতিদিন কিছু সময় শুধু টিডিএম (TDM) বা এঙ্গেলিং (Angling) প্র্যাকটিসের জন্য রাখো, দেখবে তোমার রিফ্লেক্স এবং এম (Aim) অনেক ভালো হবে। শুধু কিল (Kill) করার দিকে না তাকিয়ে, কিভাবে জোনে টিকে থাকতে হয় এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেদিকেও মনোযোগ দিতে হবে। ছোট ছোট ভুলগুলো থেকে শিখতে শেখো, কারণ এগুলোই তোমাকে একজন ভালো প্লেয়ারে পরিণত করবে।
নিয়মিত অনুশীলনই সাফল্যের চাবিকাঠি

গেমিংয়ে সফল হতে চাইলে অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই, ঠিক যেমন অন্য যেকোনো খেলাধুলায় হয়। প্রতিদিন অন্তত ২-৩ ঘন্টা অনুশীলনের জন্য সময় বের করো। এটা শুধু র্যা ঙ্ক পুশ করা নয়, বরং ট্রেনিং গ্রাউন্ডে নতুন নতুন কৌশল চেষ্টা করা, বিভিন্ন গান (Gun) কম্বিনেশন নিয়ে কাজ করা এবং বন্ধুদের সাথে কাস্টম ম্যাচ খেলে নিজেদের ভুলগুলো খুঁজে বের করা। আমি অনেকবার দেখেছি যে, টুর্নামেন্টের আগে আমাদের টিম একসাথে বসে প্ল্যান (Plan) করে এবং সেই অনুযায়ী অনুশীলন করে। এটা আমাদের ভুলগুলো ধরতে এবং নতুন কৌশল তৈরি করতে অনেক সাহায্য করে। অনুশীলনের সময় কখনোই বিরক্ত হওয়া উচিত নয়, কারণ তোমার আজকের ঘামই কালকের সাফল্যের চাবিকাঠি। তুমি যদি নিয়মিত অনুশীলন না করো, তাহলে বড় টুর্নামেন্টে ভালো পারফর্ম করাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। নিজের গেমিং স্কিলকে শাণিত করার এটাই একমাত্র উপায়।
সঠিক দল গঠন এবং যোগাযোগের গুরুত্ব
আপনার স্কোয়াড কিভাবে সেরা হবে?
পাবজি মোবাইলে solo খেলার চেয়ে টিম (Team) নিয়ে খেলাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভালো একটা টিম মানে শুধু চারজন ভালো প্লেয়ার নয়, বরং চারজন এমন প্লেয়ার যারা একে অপরের সাথে বোঝাপড়া করে খেলতে পারে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, একটা শক্তিশালী টিম গঠন করতে হলে শুধু স্কিল (Skill) নয়, বরং মানসিক বোঝাপড়া এবং একে অপরের প্রতি বিশ্বাস থাকাটা জরুরি। তোমার টিমে একজন ইন-গেম লিডার থাকা চাই, যে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এছাড়া একজন ভালো সাপারোর্টার, একজন ফ্রেগার এবং একজন স্কাউটার – এই রোলগুলো সঠিকভাবে ভাগ করে নিলে টিম অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। মনে রেখো, তোমার টিমের সদস্যরা তোমার সেরা বন্ধু হবে টুর্নামেন্টের মাঠে।
ইন-গেম যোগাযোগের কৌশল
টিমওয়ার্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইন-গেম কমিউনিকেশন (Communication)। সাইলেন্ট প্লেয়ার দিয়ে বড় টুর্নামেন্ট জেতা প্রায় অসম্ভব। তোমাদের টিমের মধ্যে স্পষ্ট এবং কার্যকর কমিউনিকেশন থাকা দরকার। কোন এনিমি (Enemy) কোথায় আছে, কোন দিকে রাশ (Rush) করতে হবে, কখন ফাইট (Fight) নিতে হবে, কখন হোল্ড (Hold) করতে হবে – এই সব বিষয়ে দ্রুত এবং পরিষ্কার তথ্য আদান-প্রদান করা জরুরি। আমি দেখেছি, অনেক সময় ছোটখাটো ভুলের কারণে টিম হেরে যায়, যার প্রধান কারণ হলো যোগাযোগের অভাব। টিমমেটদের সাথে ভয়েস চ্যাটে কথা বলার সময় সংক্ষেপে এবং স্পষ্ট করে বলতে শেখো। অতিরিক্ত কথা বলে টিমের মনোযোগ নষ্ট না করাটাও একটা কৌশল।
ছোট টুর্নামেন্ট থেকে বড় মঞ্চে যাত্রা
অনলাইন লিগ এবং কমিউনিটি টুর্নামেন্টের খোঁজ
পেশাদার পাবজি খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখলে তোমাকে ছোট ছোট টুর্নামেন্ট থেকেই শুরু করতে হবে। অনেকেই ভাবে, সরাসরি বড় টুর্নামেন্টে নামবে, কিন্তু এটা প্রায় অসম্ভব। আমাদের দেশের বিভিন্ন কমিউনিটি এবং গেমিং গ্রুপগুলো নিয়মিত ছোট ছোট অনলাইন টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। ডিসকর্ড (Discord) সার্ভার, ফেসবুক (Facebook) গ্রুপ এবং বিভিন্ন গেমিং প্ল্যাটফর্মে এই টুর্নামেন্টগুলোর খোঁজ পাওয়া যায়। এখানে অংশ নিয়ে তুমি তোমার টিমের পারফরম্যান্স ঝালিয়ে নিতে পারবে এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সাথে লড়ার সুযোগ পাবে। আমি নিজেও আমার পাবজি যাত্রা ছোট কমিউনিটি টুর্নামেন্ট থেকেই শুরু করেছিলাম, যা আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল।
অভিজ্ঞতা বাড়ানোর সহজ উপায়
ছোট টুর্নামেন্টগুলো তোমাকে শুধু খেলার সুযোগই দেয় না, বরং প্রতিযোগিতামূলক গেমিংয়ের পরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা দেয়। এই টুর্নামেন্টগুলো জেতা বা হারার চেয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করাটা বেশি জরুরি। তুমি এখানে নতুন কৌশল চেষ্টা করতে পারবে, প্রতিপক্ষের ভুলগুলো থেকে শিখতে পারবে এবং তোমার টিমের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে পারবে। মনে রাখবে, প্রতিটি ম্যাচই তোমার জন্য একটা নতুন শেখার সুযোগ নিয়ে আসে। বেশি বেশি টুর্নামেন্টে অংশ নিলে তোমার টিম আরও বেশি অভিজ্ঞ হয়ে উঠবে এবং বড় টুর্নামেন্টে ভালো করার সম্ভাবনা বাড়বে।
টুর্নামেন্টের নিয়মকানুন ও কৌশলগত প্রস্তুতি
প্রতিপক্ষের কৌশল বিশ্লেষণ
যেকোনো টুর্নামেন্টে সফল হতে হলে প্রতিপক্ষকে ভালোভাবে জানতে হবে। শুধুমাত্র নিজের খেলা ভালো হলে হবে না, জানতে হবে তোমার প্রতিপক্ষরা কেমন খেলে, তাদের পছন্দের ল্যান্ডিং স্পট (Landing Spot) কোনটা, তারা কখন রাশ করে, আর তাদের দুর্বল দিকগুলো কী কী। টুর্নামেন্টের আগে প্রতিটা টিমের গত খেলাগুলো রিভিউ (Review) করাটা খুব দরকারি। আমি দেখেছি, যখন আমরা প্রতিপক্ষের খেলার ধরণ বিশ্লেষণ করে মাঠে নামি, তখন আমাদের জয় অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। প্রতিপক্ষের গেমপ্ল্যান (Gameplan) বুঝে সেই অনুযায়ী নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করাটাও একটা বড় গুণ।
জোনের হিসাব এবং সঠিক রোটেটিং
পাবজি মোবাইলে জোন (Zone) ম্যানেজমেন্ট (Management) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। কখন জোনের ভিতরে ঢুকতে হবে, কখন এজ (Edge) ধরে খেলতে হবে, আর কখন ফাইট (Fight) এড়িয়ে যেতে হবে, এই সিদ্ধান্তগুলো সঠিকভাবে নেওয়াটা জরুরি। টুর্নামেন্টে প্রতিটা জোন আলাদা আলাদা কৌশল দাবি করে। টিম হিসেবে জোনে রোটেট (Rotate) করার সময় কভার (Cover) ব্যবহার করা এবং সেফ (Safe) রুট (Route) বেছে নেওয়া উচিত। আমি দেখেছি, অনেক ভালো টিমও শুধু জোন ম্যানেজমেন্টের অভাবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পজিশন (Position) নেওয়াটা যুদ্ধের অর্ধেক জেতার সমান।
ই-স্পোর্টস প্ল্যাটফর্ম এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া
জনপ্রিয় পাবজি ই-স্পোর্টস প্ল্যাটফর্মগুলো
আজকাল পাবজি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ভালো প্ল্যাটফর্ম আছে। দেশের বাইরে যেমন ESL India বা অফিসিয়াল PUBG Mobile Esports এর মত বড় প্ল্যাটফর্মগুলো আছে, তেমনি আমাদের দেশেও অনেক কমিউনিটি তাদের নিজস্ব টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। এই প্ল্যাটফর্মগুলো পেশাদারিত্বের সাথে টুর্নামেন্ট পরিচালনা করে এবং এখানে ভালো পারফর্ম করলে তুমি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও পরিচিতি পেতে পারো। তোমাদের সুবিধার জন্য কিছু জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| প্ল্যাটফর্মের নাম | টুর্নামেন্টের ধরন | সুবিধা |
|---|---|---|
| ESL India/Global | পেশাদার এবং সেমি-পেশাদার | বড় প্রাইজ পুল, আন্তর্জাতিক এক্সপোজার |
| PUBG Mobile Esports (Official) | অফিসিয়াল লিগ, বড় টুর্নামেন্ট | সর্বোচ্চ স্তরের প্রতিযোগিতা, গ্লোবাল স্বীকৃতি |
| Local Community Tournaments (Discord/Facebook) | শিক্ষানবিশ এবং স্থানীয় দল | অভিজ্ঞতা অর্জন, স্থানীয় খেলোয়াড়দের সাথে পরিচিতি |
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিস্তারিত প্রক্রিয়া
যেকোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হলে সবার আগে তোমাকে রেজিস্ট্রেশন (Registration) করতে হবে। বেশিরভাগ প্ল্যাটফর্মেই অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ফর্ম (Form) পূরণ করতে হয়, যেখানে তোমার টিমের নাম, খেলোয়াড়দের ইন-গেম আইডি (ID) এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। রেজিস্ট্রেশনের আগে টুর্নামেন্টের নিয়মকানুন এবং ফরম্যাট (Format) খুব ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। অনেক সময় বিশেষ সার্ভার (Server) বা ভার্সন (Version) ব্যবহার করতে হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আমার মনে আছে, প্রথমবার যখন রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম, তখন একটা ছোট ভুল করে প্রায় টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছিলাম!
তাই প্রতিটি ধাপ খুব সাবধানে অনুসরণ করা জরুরি।
মানসিক প্রস্তুতি এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলা
হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর মন্ত্র
পাবজি ই-স্পোর্টসে জয়-পরাজয় জীবনেরই অংশ। প্রতিটি টুর্নামেন্টে সবাই জিতবে এমনটা হয় না। অনেক সময় এমনও হয় যে, তোমরা খুব ভালো খেলেছো, কিন্তু ভাগ্যের কারণে হেরে গেছো। এই সময়ে হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু একজন পেশাদার খেলোয়াড় কখনোই হতাশাকে জয় করতে দেয় না। হারের পর নিজেদের ভুলগুলো খুঁজে বের করা এবং সেগুলোকে ঠিক করার চেষ্টা করাটাই হলো আসল কাজ। আমার টিমও অনেকবার হেরেছে, কিন্তু আমরা কখনোই হাল ছাড়িনি। প্রতিটি হার আমাদের আরও শক্তিশালী করেছে এবং পরেরবার আরও ভালো খেলার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে। মনে রাখবে, আজকের হার আগামীকালের জয়ের সিঁড়ি।
টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোর উপায়
বড় টুর্নামেন্টে খেলার সময় মানসিক চাপ অনুভব করাটা খুব স্বাভাবিক। হাজার হাজার দর্শক এবং প্রতিপক্ষের তীব্র প্রতিযোগিতা সবকিছু মিলিয়ে একজন খেলোয়াড়ের উপর অনেক চাপ তৈরি করে। এই চাপ সামলানোর জন্য তোমাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। ম্যাচের আগে হালকা ব্যায়াম করা, গভীর শ্বাস নেওয়া বা টিমের সাথে হালকা গল্প করা – এগুলো চাপ কমাতেও সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, নিজের উপর বিশ্বাস রাখা। তুমি জানো যে তুমি ভালো খেলতে পারো, তাই অযথা টেনশন (Tension) না করে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করো। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন তুমি আত্মবিশ্বাসী থাকবে, তখন তোমার পারফরম্যান্সও অনেক ভালো হবে।
গেমিং ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার টিপস
স্ট্রিমিং এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশন
শুধু টুর্নামেন্ট খেলে ভালো প্লেয়ার হওয়া যায় না, নিজের ব্র্যান্ড (Brand) তৈরি করাও জরুরি। আজকাল স্ট্রিমিং (Streaming) এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশন (Content Creation) গেমিং ইন্ডাস্ট্রির একটা বিশাল অংশ। তুমি যদি তোমার গেমপ্লে (Gameplay) স্ট্রিম (Stream) করো বা মজার ভিডিও (Video) তৈরি করো, তাহলে আরও অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবে। এর ফলে তোমার ফলোয়ার (Follower) বাড়বে, মানুষ তোমাকে চিনবে এবং স্পনসরশিপের (Sponsorship) সুযোগও তৈরি হবে। আমি নিজেও মাঝে মাঝে আমার খেলার কিছু অংশ রেকর্ড করে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি, তারা এটা খুব উপভোগ করে। নিজের অভিজ্ঞতা, টিপস এবং ট্রিকস (Tricks) শেয়ার করে তুমি একজন ইনফ্লুয়েন্সারও (Influencer) হয়ে উঠতে পারো।
স্পনসরশিপ ও ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগ
যখন তুমি একজন পরিচিত পাবজি প্লেয়ার বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে উঠবে, তখন বিভিন্ন গেমিং কোম্পানি বা ব্র্যান্ড তোমার সাথে কাজ করতে চাইবে। এটাই হলো স্পনসরশিপের সুযোগ, যা তোমার গেমিং ক্যারিয়ারকে আর্থিকভাবেও শক্তিশালী করবে। ভালো পারফরম্যান্স এবং জনপ্রিয়তা তোমাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর (Brand Ambassador) হওয়ার সুযোগ দিতে পারে। তবে এর জন্য তোমাকে ধারাবাহিক ভালো পারফর্ম করতে হবে এবং নিজের অনলাইন ইমেজ (Image) ভালো রাখতে হবে। মনে রাখবে, ই-স্পোর্টস এখন শুধু খেলা নয়, একটা বিশাল বড় ক্যারিয়ার অপশন (Career Option)। সঠিক পথে এগিয়ে গেলে তুমিও এই দুনিয়ায় নিজের নাম উজ্জ্বল করতে পারবে।
লেখাটি শেষ করছি
বন্ধুরা, পাবজি মোবাইলে টুর্নামেন্ট খেলার স্বপ্ন দেখাটা মোটেই অযৌক্তিক নয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা আর এতদিনের পথচলা থেকে বুঝেছি, ধৈর্য, অনুশীলন আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। মনে রেখো, প্রতিটি হারই শেখার নতুন সুযোগ নিয়ে আসে এবং তোমাকে আরও অভিজ্ঞ করে তোলে। নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে এগিয়ে চলো, আর দেখবে একদিন তোমার টিমও বড় মঞ্চে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। গেমিং এখন শুধু বিনোদন নয়, একটা সম্মানজনক ক্যারিয়ারও বটে। তাই লেগে থাকো, সেরাটা দাও, আর তোমার গেমিং স্বপ্নকে বাস্তব করে তোলো!
জেনে রাখুন কাজে লাগতে পারে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
১. নিয়মিত অনুশীলন: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে ট্রেনিং গ্রাউন্ডে সময় দাও এবং কাস্টম ম্যাচে অংশ নিয়ে স্কিল উন্নত করো। মনে রেখো, ধারাবাহিকতা সাফল্যের চাবিকাঠি।
২. টিমওয়ার্ক: ভালো পারফর্ম করার জন্য একটি শক্তিশালী টিম তৈরি করা খুব জরুরি। একে অপরের সাথে বোঝাপড়া এবং কার্যকর যোগাযোগ ছাড়া বড় টুর্নামেন্ট জেতা কঠিন।
৩. গেমের জ্ঞান: শুধুমাত্র ভালো খেললেই হবে না, ম্যাপের খুঁটিনাটি, জোন রোটেশন এবং প্রতিপক্ষের কৌশল সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখা জরুরি। একটি ভালো হেডসেট ব্যবহার করে সাউন্ড কিউগুলোতে মনোযোগ দিলে গেমপ্লে উন্নত হয়।
৪. মানসিক প্রস্তুতি: টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরাজয়ের পর হতাশ না হয়ে ভুল থেকে শেখার মানসিকতা তৈরি করো।
৫. ক্যারিয়ার অপশন: শুধুমাত্র টুর্নামেন্ট নয়, স্ট্রিমিং এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমেও গেমিং জগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে পারো, যা স্পনসরশিপের সুযোগ তৈরি করবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সারসংক্ষেপ
পাবজি মোবাইলের প্রতিযোগিতামূলক জগতে সাফল্য পেতে হলে প্রয়োজন ব্যক্তিগত দক্ষতা, কার্যকরী দলগত বোঝাপড়া এবং কৌশলগত প্রস্তুতি। নিয়মিত অনুশীলন ও খেলার ধরণকে উন্নত করা, সঠিক টিমের সাথে কার্যকর যোগাযোগ রাখা এবং ছোট টুর্নামেন্ট থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা অত্যাবশ্যক। প্রতিপক্ষের কৌশল বিশ্লেষণ, জোন ব্যবস্থাপনা এবং মানসিক চাপ মোকাবিলা করার ক্ষমতা একজন খেলোয়াড়কে পেশাদার স্তরে নিয়ে যেতে পারে। স্ট্রিমিং ও কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করা এবং স্পনসরশিপের সুযোগ কাজে লাগানো গেমিং ক্যারিয়ারের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম আর সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে পাবজি মোবাইলে যেকোনো স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: বাংলাদেশের পাবজি মোবাইল টুর্নামেন্টগুলো খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় কী?
উ: পাবজি মোবাইল টুর্নামেন্ট খুঁজে পাওয়া এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে, বন্ধুরা! আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, প্রথমত তোমরা ফেসবুক গ্রুপগুলোতে নজর রাখতে পারো। “PUBG Mobile Bangladesh Community,” “Bangladesh Esports” বা “PUBG Mobile Scrims BD” – এরকম অসংখ্য গ্রুপ আছে যেখানে ছোট-বড় টুর্নামেন্টের ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া, ডিসকর্ড সার্ভারগুলোও বেশ কার্যকর। বিভিন্ন ই-স্পোর্টস অর্গানাইজেশন যেমন গেম অন (Game On), র্যাবিটহোল (Rabbithole) বা অন্যান্য গেমিং সংস্থার ডিসকর্ড সার্ভারে জয়েন করলে নিয়মিত টুর্নামেন্টের আপডেট পাওয়া যায়। অনেক সময় আমাদের দেশের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি বা কলেজেও ছোট ছোট টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। আমার তো মনে আছে, একবার একটা ছোট অনলাইন টুর্নামেন্ট থেকে আমাদের টিমের এক নতুন প্লেয়ার দারুণ ফর্মে এসে বড় প্ল্যাটফর্মে সুযোগ পেয়েছিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পাবজি মোবাইলের অফিশিয়াল বাংলাদেশ পেজ এবং বড় ই-স্পোর্টস প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে যুক্ত থাকা। ওরা যখনই কোনো বড় টুর্নামেন্টের ঘোষণা দেয়, তখনই সেটা সবার আগে জানতে পারবে। মনে রেখো, ছোট লিগ থেকে শুরু করাটা বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ সেখানেই তোমরা নিজেদের স্কিল ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে!
প্র: পাবজি মোবাইল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য কী কী যোগ্যতা লাগে এবং একটি দলের গঠন কেমন হওয়া উচিত?
উ: টুর্নামেন্টে অংশ নিতে গেলে কিছু সাধারণ যোগ্যতা আর একটা ভালো দল থাকা খুবই জরুরি, ভাইসব। বেশিরভাগ টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রে ১৮ বছর বয়স হওয়াটা বাঞ্ছনীয়, তবে কিছু ছোট টুর্নামেন্টে ১৬ বছর বয়সীদেরও সুযোগ দেওয়া হয়, তাই নিয়মগুলো ভালো করে দেখে নিও। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, একটি কার্যকর দল গঠন করা। সাধারণত একটি দলে ৪ জন মূল খেলোয়াড় থাকে এবং অনেক সময় ১ জন অতিরিক্ত খেলোয়াড় (সাবস্টিটিউট) রাখার সুযোগ থাকে। কিন্তু শুধু খেলোয়াড় থাকলেই হবে না, দলের মধ্যে বোঝাপড়াটা খুব দরকার। আমার মতে, একটি ভালো দলে একজন ইন-গেম লিডার (IGL), একজন বা দুজন ফ্র্যাগার (Fragger), একজন সাপোর্ট প্লেয়ার এবং একজন স্নিপার (Sniper) থাকা উচিত। IGL পুরো ম্যাচটার কৌশল ঠিক করে, ফ্র্যাগাররা কিল নেওয়ার দায়িত্বে থাকে, সাপোর্ট প্লেয়ার তাদের কাভার দেয় আর স্নিপার দূর থেকে ফায়ার পাওয়ার যোগান দেয়। আমার তো মনে আছে, একবার আমরা এমন একটা দল নিয়ে খেলেছিলাম যেখানে সবার রোল ঠিক করা ছিল না, আর সেবার আমাদের কমিউনিকেশনের অভাবে অনেক সহজ ম্যাচও হেরে গেছিলাম। তাই একে অপরের সাথে যোগাযোগ করা এবং একসাথে প্র্যাকটিস করাটা খুবই দরকারি। ডিভাইস আর ইন্টারনেট কানেকশনও ভালো থাকা চাই, নইলে ল্যাগ (lag) করে অনেক সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে!
প্র: পাবজি মোবাইল ই-স্পোর্টসে সফল হওয়ার জন্য কীভাবে আমার দক্ষতা বাড়াতে পারি এবং কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করা উচিত?
উ: পাবজি মোবাইল ই-স্পোর্টসে সফল হতে হলে শুধু ভালো খেললেই হবে না, নিয়মিত অনুশীলন আর স্মার্ট কৌশলও দরকার। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, প্রথমে তোমাদের প্রতিদিন অন্তত কয়েক ঘণ্টা প্র্যাকটিস করতে হবে। শুধু র্যাংক পুশ (rank push) করলেই হবে না, ট্রেনিং গ্রাউন্ডে গিয়ে বন্দুকের রিকোয়েল (recoil) কন্ট্রোল, কুইক স্কোপ (quick scope) বা পিক অ্যান্ড ফায়ার (peek and fire) প্র্যাকটিস করতে হবে। এরপর আসে কৌশল। তোমরা যদি বড় প্লেয়ারদের খেলা দেখো (যেমন ইউটিউবে প্রফেশনাল টুর্নামেন্টের ভিডিও), দেখবে তারা কীভাবে জোন রোটেশন (zone rotation) করে, কখন রাশ (rush) করে বা কখন ডিফেন্স (defense) নেয়। আমি নিজে প্রতিদিন অন্তত একটা ম্যাচের পর আমার দলের সাথে বসে ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করি। একে বলে ভড রিভিউ (VOD review)। এতে নিজের ভুলগুলো বোঝা যায় এবং পরের ম্যাচে সেগুলো এড়ানো সম্ভব হয়। কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ একটি দলের মেরুদণ্ড। তাই সতীর্থদের সাথে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিষ্কারভাবে কথা বলতে হবে। কে কোথায় আছে, কী করছে, কোথায় ফায়ার হচ্ছে – সবকিছু জানাতে হবে। এছাড়া, গ্রেনেড (grenade), স্মোক (smoke) বা মলটভ (molotov) এর সঠিক ব্যবহার ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। মনে রাখবে, ই-স্পোর্টসে সফল হতে গেলে শুধু হাত চালানো নয়, মাথাও চালাতে হয়। ধৈর্য ধরো, লেগে থাকো, আর নিজের ভুল থেকে শেখো – দেখবে একদিন ঠিক সফল হবে!






